মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

স্পষ্টভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে: রুবানা হক

রিপোটারের নাম / ১৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০
add

টিআইবির রিপোর্টের অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে তার বিরোধিতা করেছেন তৈরি পোশাক খাতের প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের বড় সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি বলেছেন, টিআইবির রিপোর্টে ১৪ লাখ শ্রমিক করোনাকালীন সময়ে বেতন পায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন তথ্য তারা কোথা থেকে পেয়েছেন, কোন এলাকা ও কতটি প্রতিষ্ঠানে জরিপ করে এমন তথ্য পেয়েছেন তা উল্লেখ নেই। যা খুবই দুঃখজনক। গতকাল শনিবার ভোরের কাগজকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ‘তৈরি পোশাক খাতে করোনা ভাইরাস উদ্ভূত সংকট : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে বলা হয়, শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৬(১) এ লে-অফ ঘোষিত কারখানায় এক বছরের কম কাজ করা শ্রমিকদের কোনো ক্ষতিপূরণ না দেয়া এবং ৪৫ দিনের বেশি লে-অফ হলে ধারা-২০ এর আওতায় ছাঁটাই করার বিধান থাকায় মালিকপক্ষ একতরফা সুবিধা ভোগ করে। মহামারিকালে এর ফলে মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিশ্চিতে কারখানা লে-অফ করার প্রবণতা বেড়েছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্রমিকরা। উল্লেখিত দুটি ধারার কারণে করোনাকালেও ১ বছরের কম সময় কাজ করা প্রায় ২০ শতাংশ পোশাক শ্রমিক কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

টিআইবির ৩৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের প্রতিবাদ দিয়েছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএর পক্ষে রুবানা হক বলেন, প্রতিবেদনের অনেক জায়গায় ‘বহু ক্ষেত্রে, অনেক সময়, প্রায়’- এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনটিতে নানারকম অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জানি না, টিআইবি কোন কোন এলাকায় এবং কোন কোন কারখানায় জরিপ চালিয়েছে। তাই আমরা প্রথমেই এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে চাই। জরিপে কারখানার নাম এবং এলাকা যদি আমরা চিহ্নিত করতে পারি তাহলে সহজ হবে।

তিনি বলেন, কয়েকটি পৃষ্ঠার স্পষ্ট করে আমরা প্রতিবাদ করতে চাই। যেমন- তারা বলেছেন আমরা অপরিকল্পিতভাবে কারখানা খুলে দিয়ে সমালোচনার মুখে একইদিনে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে আমাদের ঘোর আপত্তি আছে। যখন সমস্যা হয়েছিল তখন প্রো-অ্যাকটিভ না হয়ে আজকে যখন আমরা সমস্যার মোকাবিলা করে উঠে দাঁড়াতে পেরেছি এবং করোনার দ্বিতীয় প্রবাহের সামনাসামনি হয়েছি- সেখানে অতীতের বিষয়ে যদি আগামীর বিচার করা হয় সেটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, টিআইবি একটিভ না হয়ে সবসময় রিএক্টিভ হন এটা আমাদের জন্য সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।

রুবানা হক বলেন, লে-অফের ১ বছরের কম কাজ করা শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলেছে টিআইবি। সেখানে তারা আইনের পরিবর্তন চেয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা আইন যা বলে সেই অনুযায়ী চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠান চালাতে। ৪০ লাখ শ্রমিকের পরিবার আমাদের, সুতরাং ঘাটতি থাকতেই পারে। সেটিকে সামলে সঠিক করা আমাদের কাজ। টিআইবি যদি একটি রেসপন্সিবল প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে, তাহলে তাদের উচিত জরিপ করা সমস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেয়া এবং কোন প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেছেন তা আমাদের জানানো।

রুবানা হক টিআইবর প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনের ৯ নম্বর পৃষ্ঠা নিয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। সেখানে টিআইবি বলেছে, করোনা মহামারির কারণে চীন থেকে পোশাক ব্যবসার বড় অংশ বাংলাদেশে চলে আসবে- এমন আত্মতুষ্টিতে ভোগে বিজিএমইএ। এ প্রসঙ্গে রুবানা হক বলেন, আমরা মনে করি এখানে আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। আমরা আমাদের সংগঠন থেকে জোরালোভাবে কখনোই বলিনি, চীন থেকে আমরা অনেক পেয়ে যাব। আমরা বরং বলেছি, চীনের সঙ্গে আমরা তিরিশটা পণ্য ওভারল্যাপ করি। সেখানে ষোলোটা পণ্য চীন এবং বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই রপ্তানি কমেছে। সুতরাং আমরা হঠাৎ করেই এ ধরনের অসাবধান কোনো বক্তব্য দেইনি। কেউ আলাদাভাবে বললে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেইনি। এছাড়া ১০, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৯,২২,২৩,২৪ নম্বর পৃষ্ঠার বক্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রুবানা হক।

টিআইবিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রুবানা হক বলেন, কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে সেটা তথ্যনির্ভরভাবে বলতে হবে। নেতিবাচক শব্দ ব্যবহারের জন্য এ সেক্টর ভেসে যাচ্ছে। আমাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলতে হবে না। তবে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট প্রকাশ করেন। আপনারা আমাদের ছোট করবেন না, তাহলে আমরাও আপনাদের নানা রকম কার্যকলাপ নিয়ে বলতে বাধ্য হব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ