বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
add

সিরিজ বোমা হামলায় বিএনপির মদদ ছিল ॥ কাদের

রিপোটারের নাম / ১১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
add

দেশে সিরিজ বোমা হামলার পেছনে বিএনপি সরকারের মদদ থাকায় রাষ্ট্রযন্ত্র নীরব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, হত্যা, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গীবাদকে এদেশে বিএনপিই প্রশ্রয় ও লালন-পালন করে ক্যান্সারে রূপান্তর করেছে। ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট সবই একসূত্রে গাথা। এসব হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি। এসব হত্যা, সন্ত্রাসও ষড়যন্ত্রের অংশ।

সোমবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ ভবনের এলাকার তার সরকারী বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সাবেক নেতা গোলাম আশরাফ তালুকদার, ডাঃ দিলীপ রায়, মোর্শেদ কামাল, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার জঙ্গীগোষ্ঠীর বিষদাঁত ভেঙে দিলেও গোপনে গোপনে তাদের এখনও সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তারা সুযোগ খুঁজছে। আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলায় কোন ষড়যন্ত্রকারীর ঠাঁই নেই। প্রশ্রয় নেই কোন জঙ্গীগোষ্ঠী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির। সব ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে জনগণের ভালবাসা এবং সমর্থন নিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান যে যাত্রা, তা এগিয়ে যাবে অদম্য গতিতেই। দেশে সিরিজ বোমা হামলার জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জনবল ও বোমা সরবরাহ এতসব একদিনে গড়ে ওঠেনি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র সেদিন নীরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল। না হলে কীভাবে এ দীর্ঘ প্রস্তুতি জঙ্গীরা গ্রহণ করল?

তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে তেমনি ১৫ আগস্টের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকা-ের সূচনা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আবার ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলাও সেই আগস্ট মাসে। তাই বলব, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট সবই একসূত্রে গাথা। এসব হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি। এসব হত্যা, সন্ত্রাসও ষড়যন্ত্রের অংশ।

আগস্ট মাস এলেই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ শঙ্কায় থাকে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারা সুযোগ খুঁজছে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আর কোন ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এ দেশে যেন না আসে। না আসে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা কিংবা হলি আর্টিজানের ঘটনা। চাই না রমনা বটমূলের মতো নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আছেন বলেই ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের বিচার হয়েছে। জাতির কলঙ্কমোচন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা আছেন বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে। জাতি পাপের বোঝা থেকে মুক্ত হয়েছে। তিনি আছেন বলেই জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনও তারা সেই অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে। নির্লজ্জভাবে তারা গুম-খুনের কথা বলে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, তারা কি অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনা করেনি? ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ৯৭ জনকে হত্যা করেছিল। অপারেশন ক্লিন হার্টের হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিল। অথচ আজ মানবাধিকার আর হত্যার বিচারের কথা বলে। গুম-খুনের কথা বলে। শেখ হাসিনা কোন খুনীকে ইনডেমনিটি দিয়ে বাঁচাননি, খুনকে জায়েজ করেননি। হত্যা-সন্ত্রাস-ভয়ের রাজনীতির যাদের ঐতিহ্য, তাদের ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১,৭৮৩,৯৫৮
সুস্থ
২৩,৪০০,৯০৫
মৃত্যু
৯৭৫,৪৭২