শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
add

সকলকে সাথে নিয়ে উন্নত দেশ গড়ে তুলতে চাইঃ সাদ এরশাদ এমপি

রিপোটারের নাম / ২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
add

আমি জানি, অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেন।
আমি তাতে কিছু মনে করি না। সব সময়েই সব জায়গায় আমি আশা ও ভালোবাসার আনন্দ খুঁজে পাই। আমার বাবার অনেক আশা ছিলো, এই দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলবে। এখন আমি, আমার বাবার আশা পুরন করতে চাই।
শুধু আমি নই, আমার মতো যারা ১৯৭১ ও ১৯৯০-এর সেই ভয়াবহ সময় পার করে এসেছে তাদের সবাই এই দেশ নিয়ে আশাবাদী। বিনা অপরাধে আমি শিশু কালে জেল খেটেছি কোন দুঃখ নেই তাতে । আমি মানবতার সবচেয়ে নৃশংস রূপটি দেখেছি একই সাথে এই দেশে মানুষের সাহস, শক্তি এবং আত্মত্যাগের রূপটিও দেখে এসেছি । আমরা কীভাবে এই দেশ নিয়ে আশাবাদী না হয়ে পারবো ?

আমি জানি এখনকার খবরের কাগজ দেখলে,
যে কেউ এক ধরনের হতাশা অনুভব করে। খবরের কাগজ খুললেই ধর্ষণ, গণধর্ষণ আর শিশু ধর্ষণের। মনে হচ্ছে সকলেই বুঝি একজনের সঙ্গে আরেকজন এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় নেমেছে । কিছু দিন আগেও ডেঙ্গুর খবর এসেছে। সারা জীবন দেখে এসেছি বেঁচে থাকতে হলে মানুষের রোগ-শোক হয়, কিছু দিন ভুগে আবার ভালো হয়ে যায়। এখন কথা নেই বার্তা নেই, দুধের শিশুটি থেকে বড় মানুষ ডেঙ্গুতে হঠাৎ করে মারা যাচ্ছে। কী ভয়ঙ্কর একটা পরিবেশ। ঈদের আগে আর পরে গাড়ি এক্সিডেন্টের খবর, এত অল্প সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এতো মানুষ মারা যেতে পারে, নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না।
ঈদের সময় হঠাৎ দেখি চামড়া কেলেঙ্কারির
খবর, রাতারাতি বিচিত্র সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে চামড়া ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। তার আগে ছিল বন্যার খবর। মাঝখানে দুধ নিয়ে বিশাল হইচই– গবেষকরা দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন, মুখ ফুটে সেই কথাটি বলা মাত্র মনে হলো সরকারি কর্মকর্তারা গবেষকদের গলা চেপে ধরবেন। একটা সমস্যাকে অস্বীকার করলেই কী সমস্যাটা চলে যায় ? এমনিতে সারা বছরই রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবর থাকে, ইয়াবার বড় বড় চালান নিয়ে খবর থাকে, ক্রসফায়ারে বিনা বিচারে মানুষ মেরে ফেলার খবর থাকে। বাংলাদেশ বিমানে করে যাত্রী আনা-নেওয়ার খবরের বদলে, সোনা আনা-নেওয়ার খবর অনেক বেশি থাকে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার
ছিল ছেলে ধরা সন্দেহে একেবারে নিরীহ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা।

মাঝে মধ্যে আমার মনে হয় আমরা বুঝি সভ্য মানুষ নই ? আমরা বুঝি মধ্যযুগের বর্বর মানুষ ! কাজেই খবরে কাগজ পড়ে কারও যদি মন খারাপ হয়, কেউ যদি হতাশা অনুভব করেন, আমি তো তাকে দোষ দিতে পারি না। আমি এর মধ্যেও নিজের আশাবাদকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। দাঁতে দাঁত চেপে খবরগুলো পড়ি, তারপর নিজেকে বোঝাই পৃথিবীর সব জাতি কোনও না কোনও সময় এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই
গিয়েছে, আমরাও যাচ্ছি। একসময় আমরা
শক্ত অর্থনীতির ভিত্তির ওপরে দাঁড়াবো। এখনই আমাদের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা সমান তালে লেখাপড়া করছে, সেই লেখাপড়ার মান আরও ভালো হবে। দেশের ছেলেমেয়েরা আধুনিক মানুষ হিসেবে বড় হবে। সরকার ঠিক ভাবে চলবে, বেআইনি শাসন দূর হবে, দুর্নীতি কমে আসবে, বায়ু দূষণ বন্ধ হবে,খাবারে ভেজাল থাকবে না, নদীগুলো মুক্ত হবে, সবুজ দেশটি আরও সবুজ হয়ে উঠবে। আমি এসব নিয়ে আশা করতে একটুও ভয় পাই না। আশাবাদী হয়ে বেঁচে থাকার একটা অনেক বড় সুবিধা আছে, ভয়ঙ্কর দুঃসময়টিও সাহস নিয়ে পার করে দেওয়া যায়! বিষয়টি জানি, কারণ আমি নিজেও এমন সময় পার করেছি ।

মানুষ খুবই বিচিত্র একটি প্রাণী, একজন মানুষ হয়তো নিজের জীবন নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন, তারপরেও তিনি পুরো দেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। শুধু দেশ নয়, পৃথিবী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন। কেউ কেউ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে মাথা ঘামান। যেকোনও মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেখা যাবে তার দেশ নিয়ে কিছু একটা পরিকল্পনা আছে। দেশটাকে কীভাবে ঠিক করা যাবে সেটা নিয়ে
তার নিজের চিন্তাভাবনা আছে। আমিও চিন্তা করি। তবে আমার ধারণা, অন্যরা যেরকম অল্পতে কাতর হয়ে যান, আমি তত সহজে কাতর হই না। আশাবাদী হওয়ার কারণে যেটুকু পেয়েছি তাতেই মহাখুশি হয়ে যাই, যেটুকু পাইনি তার জন্যে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করি। ভবিষ্যতে পেয়ে যাবো সেটা আশা করে বসে থাকি।

আমার বাবা কি দিয়েছে ? বা আমি কী পেয়েছি ? যাদের জন্মই হয়েছে বাংলাদেশে তারা বুঝবে না কিংবা অনুভব করবে না। কিন্তু আমাদের প্রজন্ম জানে যে আমরা বাংলাদেশটি পেয়েছি। যদি না পেতাম তাহলে আমাদের কী অবস্থা হতো আমি কল্পনাও করতে পারি না। দেশ নিয়ে আমার কী আরও কিছু চাওয়ার আছে ? যখন এটা নিয়ে চিন্তা করি তখন মনে হয় আমি দেশ থেকে দুটি জিনিস চাই, তারপরে আর কিছু চাই না।
আমি যে দুটি বিষয় চাই, তার একটি হচ্ছে রাজনৈতিক দল গুলো ” ভাই ও বন্ধু’র” মত
হওয়া। যেখানে কোন ঝগড়া, হিংসা,মারামারি থাকবে না। আর দ্বিতীয় চাওয়াটি হচ্ছে,”আবদুল হামিদ খান ভাসানী, আবুল কাশেম ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সহ আরো অনেকেই আছেন, যারা দেশের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে নিয়ে দেশে কোন কূটনীতি চলবে না। এই কূটনীতি নিয়েই হয় হিংসা, প্রতিহিংসা ও মারামারি। তার জন্য এটা বন্ধ করতে হবে। এই দুটো কাজ সঠিক ভাবে করা হলে দেশে শান্তি চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

আমার এই দুটি চাওয়া মোটেও বেশি নয়—দু’টি একই ‘একটুখানি’ মাত্র চাওয়া। এই চাওয়া বা
আশাকে আমি আইন করাতে চাই না, জোর করেও করাতে চাই না। আমি চাই, এই চাওয়া
গুলো এই দেশের মানুষের হৃদয় থেকে আসুক।

ধন্যবাদ সকলকে,

লেখকঃ

পল্লীবন্ধু এরশাদ পুত্র,
রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ এমপি
(২১, রংপুর-৩)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩৪,৪০২,৫৯৮
সুস্থ
২৫,৫৯০,৯২৫
মৃত্যু
১,০২২,৫৪২