মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

মাটিয়ান হাওরে ভোগান্তি: ৯কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণের প্রাণের দাবী

রিপোটারের নাম / ৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
add

 
 শামছুল আলম আখঞ্জী, তাহিরপুর: 
মাত্র ৯ কিলোমিটার রাস্তার কাছে অসহায় তাহিরপুরের মানুষ। সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের এই সময়টাতেও অবহেলিত এই অঞ্চল। অথচ,৯কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ হলে যোগাযোগ সহজ হয়ে যেতো উপজেলা সদরের সাথে। সেই সাথে কমে যেতো অন্তহীন দুর্ভোগ। মাটিয়ান হাওরের বুক দিয়ে চলে গেছে এই ৯ কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু পাকাকরণ না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে।
জানেোগছে, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর বাজার হতে বড়দল গ্রামের সংযোগ সড়কটি পাকা করণ করার কোন উদ্যোগ নেই দায়িত্বশীলদের। যে কারণে সাধারন মানুষসহ হাওর পাড়ের কৃষক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। এই রাস্তাটি মাটিয়ান হাওর বুক চিরে এপার ওপারের সংযোগ সড়ক।
ওই এলাকার ভোক্তভোগীরা জানান, হাওরের মানুষ মনে প্রানে বিশ্বাস করে, জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়, তখন এই রাস্তাটির অবহেলিত থাকতে পারেনা। তাদের দাবি-স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলেই এই রাস্তাটি দ্রুত আলোর মুখ দেখবে। 
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সর্ব বৃহত হাওর, কৃষি  ফসলের জন্য বিখ্যাত দেশ জুড়ে  । এখানকার মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্তা ভাল না হওয়া, পরিবহন খরচ বেশী হয়ে যায়। জমি রোপণের সময়।তাই সোনালী ফসল ঘরে আনার পরও কৃষক ৠন গ্রহস্ত হয়ে পড়ে। এখানে যদি কিছু রাস্তা পাকা করণ রাস্তা হত তাহলে কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে শহরের সুখ গ্রামে থেকেই পেত। 
 উপজেলার শ্রীপুর বাজার হয়ে মোয়াইন গুদারা ঘাট মধ্যে দিয়ে    বড়দল গ্রাম পর্যন্ত (প্রায়) ৯কিলোমিটার রাস্তা মাটিয়ান হাওরের মধ্যে দিয়ে দু পাড়ের সংযোগ সড়ক তৈরী করে । এই রাস্তাটি পাকা করণ হলে,হাওর পাড়ের  কৃষক  পরিবহন খরচ অনেকটাই কমে যেত, অন্য দিগে তরং মাটিয়ান শ্রীপুর নয়াবন্দ কুড়ের পাড় কদমতলী বেতাগড়া মন্দিয়াতা জয়পুর তেলীগাও মদনপুর জামাল পুর গ্রামসহ ১৮/১৯টি গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে অল্প সময়ে  যোগাযোগ করতে পারতেন। শহরের মত সব সুযোগ সুবিধা ভোগকরতে পারত, সদরে সাথে যোগাযোগ করে, শিক্ষা, চিকিংসা ব্যবসা,বানিজ্য, অর্থনৈতিক লাভবান হত  হাওর পাড়ের মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওরাঞ্চলের মানুষ ছয়মাস জলের উপর চলে নৌযান আর হেমন্ত  ছয়মাস  চলে আদিকালের ব্যবস্তা মাধ্যমে পায়ে হেঁটে ,তবে একটু উন্নত হয়েছে মটরসাইকেল পরিবহন। কিন্তু আজও হয়নি মুমূর্ষু রোগীসহ গর্ভবতী মায়ের জন্য,  কোন ব্যবস্থা।

 হেমন্ত,গর্ভবতী ও মুমূর্ষু রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় । যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায়,চিকিংসার অভাবে  অকালেই ঝড়ে যায়  গর্ভবতী মা ও শিশু । হাওর জনপদে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, আদি যুগের মতই পায়ে হেঁটে, যদিও মটরসাইকেল পরিবহন এখন চলে। তা দিয়ে এসব রোগী স্থানান্তরিত করা বড় বিপজ্জনক হয়ে যায়। অপারগ হয়ে মানুষ তা ব্যবহার করে। নৌ পথে যেতে গেলে সময় লাগে ঘন্টা পর ঘন্টা। কোন দিগে যাবে, যে দিগে যাবে,সেই দিগেই হাওর পাড়ের মানুষের । জনগুরুত্ব এই রাস্তাটি পাকা করণ হলেই শহরের রূপ নিবে হাওরাঞ্চলে । 

হাওর পাড়ের কৃষক  বড়দল গ্রামের সানজব উস্তার বলেন ,বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার, কৃষকের জন্য সব সময় আন্তরিক।তবে মাটিয়ান হাওরের কৃষকদের এই চরম দুর্ভোগ কষ্ট দায়ক। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  এর কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। কৃষকদের জন্য গুপাট সড়ক উল্লেখ করেও, ৯ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ করবেন । এতে কৃষক লাভবান হবে, যোগাযোগ ব্যবস্তা ভাল হলে  দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে রয়েছে তিনটি শুক্ল ষ্টেশন এর থেকে সরকার রাজেস্ব পায় শত কোটি টাকা। আর ও আছে পর্যটন কেন্দ্র নীলাদ্রী লেক  ট্যাকেরঘাট, মাদার ফিসারী অভয়ারণ্য রামসার সাইট  টাংগুয়ার। এসব দেখতে প্রতিদিনেই আসে, দেশ বিদেশ থেকে পর্যটক।  এই রাস্তাটি পাকা করণ হলে অতিসহজেই দর্শনীয় স্থানে যেতে পারবে  আগতরা। 
কথা হয় শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান   নুরুল ইসলাম এর সাথে তিনি বলেন, আমি যখন চেয়ারম্যান ছিলাম তখন সংযোগ সড়কটি  সূচনা করি।অনেক আশা নিয়ে যাত্রা করেছিলাম  ভেবে ছিলাম  আগামী প্রজন্মসহ গর্ভবতী মা, মুমূর্ষু রোগী এই রাস্তা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দ্রুত চিকিংসা সেবা গ্রহন করতে পারবে। কিন্তু —-। আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দুর্ভোগ লাঘব করেন, হাওর পাড়ের সহজ সরল জনমানুষের ,দ্রুত রাস্তাটি পাকা করণ করুন।এটি আমাদের প্রাণের দাবী । 
 কথা হয় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বদিউজ্জান এর সাথে তিনি বলেন, প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তার কাছে আমরা অসহায়, আমাদের পদে পদে পড়তে হয় দুর্ভোগে,  চোখের সামনে  অনেক ঘটে দুর্ঘটনা, যদি রাস্তাটি পাকা করণ থাকত তাহলে  সঠিক সময়ে  চিকিংসালয়ে পৌঁছাতে পারতাম, তাহলে  বেঁচে যেত, অনেক প্রাণ । শুধু পাকা করণ না থাকায় এই আমাদের দুর্গতি । তাই এই রাস্তাটিকে আমিসহ অনেকেই জনগুরুত্বপূর্ণ  রাস্তা ভাবেন। পাকা করণ করা অতিব জরুরি ।  হাওর পাড়ের কৃষক, মুমূর্ষু রোগীসহ গর্ভবতী মায়ের জন্য এই রাস্থাটিই একমাত্র যোগাযোগের ব্যবস্থা। অন্য দিগে গেলে সময় লাগে ঘন্টা পর ঘন্টা।  যদি পাকা করণ হত, অল্প সময়ে সদর হাসপাতালে চিকিংসা নেওয়া যেত। জনগুরুত্ব পূর্ণ এই রাস্তাটি পাকা করণের জন্য, আমি উর্ধতন  কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাই। 
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খসরুল আলম জানান, আমি এই রাস্তাটি সুরক্ষা রাখার জন্য  চারটি কালপাট, মাটি পেলে প্রস্তু বৃদ্ধি করে দিয়েছি। পরিষদের যদি বাজেট থাকত, তাহলে পাক করণ, অনেক আগেই করতাম ,তবে আমার  স্বার্ধমত চেষ্টা চলমান রয়েছে, আমি  উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রেখেই চলছি, রাস্তাটি পাকা করণের জন্য। এই রাস্তাটি পাকা করণ হলে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের  এম্মুলেন্স  সরাসরি  শ্রীপুর বাজারে এসেছে মুমূর্ষু রোগীসহ গর্ভবতী মাকে নিয়ে যেতে পারত সদর হাসপাতালে। কিন্তু–  উন্নত চিকিংসা থেকে বঞ্চিত শুধু  রাস্তার কারণে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জী বলেন, জনগুরুত্ব রাস্তাটি পাকা করণ করা খুবেই জরুরি । এই রাস্তাটি  যোগাযোগ ব্যবস্তা উন্নত হলে অতিসহজেই উপজেলা সদরের যাতায়াত করা সম্ভব হবে। সাথে সাথে মুমূর্ষু রোগী সহ গর্ভবতী মায়ের জন্য সুচিকিত্সা নিশ্চিত হবে। জনগুরুত্ব রাস্তাটি পাকা করণের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
 তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদ্মসন সিংহ বলেন,উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যবস্তা গ্রহন করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ