শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৪ অপরাহ্ন

জমি লিখে নিয়ে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন ছেলে

রিপোটারের নাম / ৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
add

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ ছেলে আফাজ উদ্দিন ও নাতি মোস্তফা বৃদ্ধা বয়সে দেখভাল করার কথা বলে জমি লিখে নিয়েছে। কিন্তু দেখভাল তো দূরের কথা ছয় মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার ছেলে ও নাতি।

রোববার (২ অক্টোবর) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বালিয়াপাড়া গ্রামে এ তথ্য পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী রহিমন নেসা (৭০) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আনসার আলীর স্ত্রী। তিনি তার সৎ ছেলে আফাজ উদ্দিন (৬০) ও নাতি মোস্তফা কামালের (৪০) বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ তুলেছেন।

জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রহিমন নেসাকে বিয়ে করেন আনসার আলী। দীর্ঘদিন সংসার করার পরও রহিমন নেসার কোনো সন্তান হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমন নেসা, ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে ছিল আনসার আলীর সংসার। প্রায় ১৫ বছর আগে রহিমন নেসার স্বামী আনসার আলী মারা যান। সৎ ছেলে ও মেয়েদের নিয়েই থাকত রহিমন নেসা।

এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ ছেলে আফাজ উদ্দিন ও নাতি মোস্তফা তার অংশের জমি লিখে নিয়েছে বৃদ্ধ বয়সে দেখভাল করার কথা বলে। কিন্তু দেখভাল তো দূরের কথা ছয় মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার সৎ ছেলে ও নাতি। প্রতিবেশীরা রহিমনকে আশ্রয় দিয়েছিল, তবে আশ্রয়দাতাকে হুমকি দেওয়ায় এখন প্রতিবেশীরাও তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না।

ভুক্তভোগী রহিমন নেসা জানান, স্বামী যখন তাকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন তখন তার সন্তানরা অনেক ছোট। তিনি আগের ঘরের এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিজ সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। তবে শেষ বয়সে তার সঙ্গে এমন আচরণ করবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি। সৎ ছেলে আফাজ উদ্দিন ও নাতি মোস্তফা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর পাড়া-প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন বাড়িতে থাকছেন, একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।

তিনি জানান, সম্প্রতি রহিমনকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর উদ্যোগ নেন সৎ ছেলে আফাজ। এনিয়ে তারা বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানায়, বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হলে করোনা সনদ থাকতে হবে। তাই শনিবার (১ অক্টোবর) আরেক নাতনি শারজিন রিকশাযোগে কোভিড ভ্যাকসিনের টিকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে বের হন। টিকা দেওয়ার কথা বলে রহিমনকে অন্য কোথাও ছেড়ে আসতে পারেন তারা- এমন সন্দেহ হয়। তাই গ্রামের লোকজন বাধা দিয়েছে। এনিয়ে ছেলে আফাজের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধাকে সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ