রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

চারঘাটে সরকারি সড়কগুলো গিলছে পুকুর

রিপোটারের নাম / ৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
add

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুরের পাড় হিসাবে। তাতে বছর না যেতেই রাস্তা ধ্বসে পড়ছে পুকুরের পানিতে। চারঘাট উপজেলার গ্রামীণ জনপদের পাকা রাস্তাগুলো এভাবেই একের পর এক পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার ২৩৩টি রাস্তার প্রায় আড়াই শতাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংশ্নিষ্টদের অবহেলা ও নজরদারির অভাবে প্রতি বছর এসব রাস্তার ভাঙন রোধে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

চারঘাট উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১৪ টি গ্রামে ২৩৩ টি রাস্তা রয়েছে। রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা রয়েছে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। প্রত্যেকটি গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার ধারে রয়েছে অসংখ্য পুকুর। রাস্তাকে পাড় হিসেবে ব্যবহার করে একের পর এক নতুন পুকুর খনন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব রাস্তা-ঘেঁষে পুকুর খনন করায় ধীরে ধীরে রাস্তা ভেঙে পুকুরের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর রাস্তার ভাঙন রোধে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্যালাসাইড তৈরি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমান টাকা শুধু রাস্তা রক্ষায় ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া সংশ্নিষ্টদের অবহেলা ও নজরদারি না থাকায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক পুকুর খনন অব্যাহত থাকলেও এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলার পৌরসভা ও ছয় ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া তথ্যমতে, সদর ইউনিয়নে প্রায় ৩৫টি, ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নে ৩২টি, নিমপাড়া ইউনিয়নে ৩৬টি, সরদহ ইউনিয়নে ২৯টি, শলুয়া ইউনিয়নে ৩৮টি ও পৌরসভায় ২৯টি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ পুকুর পাড় রয়েছে। এসব স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পরিবহন ও পথচারীদের। প্রতিবছর এসব রাস্তা মেরামতে কোটি কোটি টাকা জলে পড়ছে।

এদিকে গ্রামীণ রাস্তার পাশে পুকুর খননে সতর্ক করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাস্তার ধার ঘেঁষে পুকুর বা খাল বা কূপ অথবা সেচ নালা তৈরি করলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিজ খরচে সুরক্ষা ঢাল নির্মাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ বিল্ডিং কন্সট্রাকশন আইনের ৩ নং ধারা অনুসারে আইনের ৩ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে তা অপসারণ, খনন বা পুনঃখনন, বন্ধ বা ভরাট করার আদেশ দিতে পারেন।এছাড়াও দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৩১ অনুযায়ী সরকারি রাস্তার ক্ষতিসাধন ফৌজদারি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

উপজেলার পরানপুর এলাকার বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের রাস্তা নির্মাণের বছর না ঘুরতেই পুকুরে বিলীন হচ্ছে। পুকুর খননকারীরা এতটাই প্রভাবশালী এ বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় না। এতে সরকারি টাকা অপচয় হচ্ছে আর আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চারঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে পুকুর মালিকদের সতর্ক করলেও তার শুনছেন না। পুকুরে সার প্রয়োগে অল্প দিনেই কোটি টাকার রাস্তা পুকুরে বিলীন হচ্ছে। সরকারি টাকা এত পুকুরের পাড় মেরামত সম্ভব না। আমরা পুকুর গুলোর তালিকা করে উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানাবো।

উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, আমরা সরকারি টাকায় রাস্তা গুলো তৈরি করি। অথচ সেই রাস্তা কিছু দিন না যেতেই পুকুরে ধসে পড়ছে। ব্যক্তিগত পুকুরের জন্য সরকারি সম্পদ নষ্ট করা আইনগত অপরাধ। উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সানশাইন / শাহ্জাদা মিলন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ