শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
add

এ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই অপারেশন, প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

রিপোটারের নাম / ১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
add

এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি রতনা খাতুনের (৩১) সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছিল। নবজাতকটি পৃথিবীর আলো দেখলেও অপারেশান টেবিলেই মারা যান রতনা। ঘটনা তদন্তে অপারেশনের সময় এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) তদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্ত কমিটির সভাপতি গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাচারিপাড়ার হাজেরা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশানে রতনা নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। বিষয়টি তারা তদন্ত করেছেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অপারেশনের সময় এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি জানানো হবে।

প্রসঙ্গত: ২৯ আগস্ট রাতে প্রসব ব্যাথা নিয়ে হাজেরা ক্লিনিকে ভর্তি হন উপজেলার মশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রতনা। বিয়ের ১৫ বছর পর তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। হাজেরা ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ৩০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক ছাড়াই প্রসূতি রতনার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। অপারেশানের টেবিলে প্রসূতি রতনার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নাটোরের সিভিল সার্জন চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বেও আছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় স্ত্রী রতনার মৃত্যুর বিষয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম ঘটনার দিন থানায় মামলা করতে গেলেও ভয় দেখিয়ে তা করতে দেয়া হয়নি। পরে টাকার বিনিময়ে প্রসূতি রতনার মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। তবে প্রসূতি রতনার মৃত্যুর বিষয়ে সিভিল সার্জনের তদন্ত দল গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে তদন্ত শেষ করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম সোহেল ও নিহত প্রসূতি রতনার স্বামী মনিরুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর পর ২ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবু রাসেল হাজেরা ক্লিনিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালান। অভিযানের সময় ক্লিনিকের বেড সংখ্যা কম দেখাতে রোগীসহ কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখেন হাজেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। কক্ষগুলোর তালা খুলে ভর্তি থাকা প্রসূতি রোগী পাওয়া যায়।

তদন্ত কমিটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাজেরা ক্লিনিকে ১০টি বেড থাকার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিয়ম না মেনে ২২টি বেড রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযানের সময় মোবাইল কোর্টের কাছে ২২টির মধ্যে ১২টি বেড গোপন রাখেন তারা। এ কারণে তাদের ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩৪,৪০৩,৯৭৯
সুস্থ
২৫,৫৯১,২৬০
মৃত্যু
১,০২২,৫৮১