রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
add

এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম ভ্যাকসিনের অর্ডার দেয়া হয়েছে ॥ প্রধানমন্ত্রী

রিপোটারের নাম / ৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
add

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। যখনই এটা কার্যকর হবে, তখনই এটা যেন বাংলাদেশের মানুষ পায় আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। একটা সময় দেখা যেত একটু হাঁচি দিলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যেত। কিন্তু করোনা বুঝিয়ে দিয়ে গেল টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের কোন মূল্য নেই। মনে হয় করোনাভাইরাস এসেছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। আর করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসাসেবা নেয়া সম্ভব।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বিএনপি। বিভিন্ন উপনির্বাচনে তারা প্রার্থী দেয়। নির্বাচনের আগে খুব হৈ-চৈ করে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরে পরাজয়ের ভয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। মূলত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি এ রকম করে। তারা নির্বাচনের দিনে বাসে আগুন দিয়ে আবার সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করে।

বিএনপির এসব মিথ্যাচার থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) তো নিজেরাই স্বীকার করছে, তারাই আগুন দিয়েছে। তারা আগুন দেবে, উল্টো বলবে সরকারী দল করেছে! সরকারী দল কেন করবে? ঠিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে যখন আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো, তখনও কি অপপ্রচার চলেছিল সবার নিশ্চয়ই তা মনে আছে। বলা হয়েছিল, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে মেরেছি! এইভাবে তাদের মিথ্যাচার সম্পর্কে দেশবাসীকেও সচেতন হওয়া উচিত।

সমালোচকদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, সমালোচনা হলে ভাল, এতে সরকারের কার্যক্রমের ভালমন্দ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু অপপ্রচার কেন? সমালোচনায় আমাদের আপত্তি নেই, ভাল কাজ করলে সেটা একটু স্বীকার করা উচিত। অনেকে যা ইচ্ছে লিখতে পারেন, এতে হয়ত পত্রিকার কাটতি বাড়বে। নিজেদের একটু আতেল হিসেবে ভাল স্মার্ট হবেন, অথবা আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে সংগঠনের জন্য ভাল ফান্ড আনতে পারবেন। হয়ত এনজিওর জন্য বিদেশী ফান্ড আসবে। কিন্তু এই ফান্ড কোথায় যায়? ভবিষ্যতে এটার হিসাব নেয়া শুরু করব। আর যারা বলেন দেশে গণতন্ত্র নেই, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- জিয়াউর রহমান যখন হত্যা-ক্যু করে ক্ষমতা দখল করেছিল, ’৯৬ সালে দ্বিতীয়বার যখন খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এলো, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট মা-বোনদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করল তখন কি গণতন্ত্র ছিল?

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লোকজন সামনে আসলেই মাস্ক পড়তে হবে। করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে যেন খাদ্য সঙ্কট তৈরি না হয় এজন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য সঙ্কট যেন তৈরি না হয় এজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনার ভ্যাকসিনটা এখন আবিষ্কার হচ্ছে। সেটা নিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে, গবেষণাও হচ্ছে। আমরা কিন্তু আগাম প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে বুক করে ফেলেছি। যখনই এটা কার্যকর হবে, তখনই এটা বাংলাদেশের মানুষ যেন পায় আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সেটা চলমান থাকবে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাপ্তির জন্য রাজনীতি না করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, করোনা দেখিয়ে দিয়ে গেল যে টাকা-পয়সা কোন কিছুরই মূল্য নেই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ যেখানে করোনা সামলাতে হিমশিম খেয়েছে, সেখানে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম একদিনের জন্যও থাকতে দেইনি। অনেক উন্নত দেশের প্রবৃদ্ধি যেখানে মাইনাস গ্রেডে, সেখানে আমরা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হয়ত ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু পাঁচের ওপরে আমাদের প্রবৃদ্ধি থাকবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে। তাই তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি করে ফেলতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পাওয়াটাই বড় নয়, বরং জনগণকে কি দিতে পারলাম সেটাই বড়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি সভার এজেন্ডা সম্পর্কে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে অবহিত করে বলেন, আমাদের সাব কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। চেয়ারম্যান চারটি অবশিষ্ট ছিল, আপনি সেই চারজনও নিয়োগ দিয়েছেন। কাজেই এখন আর আমাদের কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে কোন অসুবিধা নেই। আপনার নির্দেশে একজন যেন একাধিক পদে না থাকতে পারে সেটা দেখা হচ্ছে। আর কোনভাবেই যেন অনুপ্রবেশকারী উপ-কমিটিতে স্থান না পায়, সেই বিষয়টি সবাইকে সতর্ক করেছি। আর বিভাগীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছি, আগামী দশ দিনের মধ্যে যে জেলা কমিটিগুলো জমা পড়েছে, সেগুলো পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করার জন্য। এছাড়াও কিছু জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে, সে ব্যাপারে আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করতে চাই। আটটা বিভাগের জন্য আট দিন আমরা আপনার কাছ থেকে এক ঘণ্টা করে সময় চাই, যাতে বিভাগীয় সম্মেলনে আপনি সংযুক্ত থাকতে পারেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিরদিন কেউ বেঁচে থাকে না, আমিও থাকব না। কারণ আমারও তো বয়স হয়ে গেছে। ৭৪ বছর পার হয়ে গেছে। এটা মনে রাখতে হবে। এই বয়স অনেক বেশি। যদিও বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু আমরা বাড়িয়ে ৭২ বছরে এনেছি। তারপরও তার থেকে বেশিই আছে। কিন্তু তারপরও সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ জন্মালে তো মরতেই হবে, এটা ঠিক। কিন্তু সংগঠনটাকে তো আমি চেষ্টা করেছি, আমার মতো গুছিয়ে দিতে। সেক্ষেত্রে আমি বলব যে, আমাদের সহযোগী সংগঠন যে কয়টা আছে, খুব দ্রুত একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আপনাদের সম্মেলনগুলো করতে হবে। অনেক সম্মেলন হয়ে গেছে, করোনার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিতে পারিনি। সেই কমিটিগুলো করতে হবে। কমিটিটা হয়ে গেলে পরে তখন কিন্তু অনেক কাজ সহজ হয়।

এ সময় করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশি করে খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি করোনায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, করোনাভাইরাস এসে সারা দুনিয়া স্থবির করে দিয়েছে। আমাদের দল, আমাদের সরকার কিন্তু থেমে থাকেনি। জনগণের জন্য কাজ করে চলছি। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রণোদনা দিয়েছি। আমরা করোনা মহামারীতে মৃত্যুর হার কম রাখতে সক্ষম হয়েছি। কারণ ঘাবড়ে না গিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। করোনা সংক্রমণ শুরুর পরই দুই হাজার ডাক্তার নিয়োগ করেছি, নার্স নিয়োগ দিয়েছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেনি। তার নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। আর আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন কাজ করেছে।

আওয়ামী লীগ আগামীর চিন্তা করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন যাদের একটি লক্ষ্য আছে, দেশ নিয়ে পরিকল্পনা আছে। আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে রাজনীতি করা। কিছু পাওয়া নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা যে কাজেই করি, আমাদের সংগঠন কিন্তু দরকার। যদি তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারি, মানুষের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ করা যায় সেটা কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি।

সরকারের ধারাবাহিকতায় দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে মানুষ একটা জিনিস উপলব্ধি করেছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণের উন্নতি হয়। তারা কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। আর আমাদের প্রত্যেকটা কাজে আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেই দেশের জনগণের জন্য। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা তৃণমূলের একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে যে মানুষগুলো বাস করে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য রেখেই কিন্তু আমরা প্রত্যেকটা কর্মসূচী নিয়েছি। উন্নয়নের কর্মসূচীগুলো নিয়েছি, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আর এই পরিকল্পনা তো এমনই আসেনি। আওয়ামী লীগ এমনই একটি সংগঠন আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে। সংগঠনগুলোও এটা চিন্তা করতে হবে, আমাদের একটা দায়িত্ব আছে এদেশের মানুষের প্রতি। আমাদের আওয়ামী লীগ যেমন বাংলাদেশের জনগণের জন্য দায়িত্ব; ঠিক সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ সবাইকে আমি বলব, সকলেরই কিন্তু নিজ নিজ জায়গায় নিজ নিজ এলাকাকেন্দ্রিক দেখভালের দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটাও পালন করতে হবে এবং সংগঠন আর জাতির পিতার আদর্শ ও চেতনাটাকে ধারণ করতে হবে।

আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতা, ভাইসহ সব হারানোর শোক ব্যথা নিয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬২,৭১২,৬২২
সুস্থ
৪৩,৩৩৬,১৫৫
মৃত্যু
১,৪৬০,৭৯২