মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:২০ অপরাহ্ন

অচেনা গণ্ডিতে চেনা বাঁধন

রিপোটারের নাম / ৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১
add

বছরের শেষ প্রান্তে এসে পেন্ডুলামে ভর করে অনেকেই শুনিয়েছেন সুখবর। তেমনই সুখবর দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। হইচইর জন্য নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি নির্মাণ করছেন একটি ওয়েব সিরিজ। বাংলাদেশের লেখক মুহাম্মদ নাজিমউদ্দিনের ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’ উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে সিরিজটি নির্মাণ হচ্ছে। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুশকান জুবেরী আর সেই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বর্তমানে ভারতে রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন।

মুশকান জুবেরী নিয়ে বাঁধন বলেন, ‘মুশকান জুবেরীর চরিত্রটি আমার অনেকটা চেনা। মুশকান এবং আমার ব্যক্তিগত চরিত্রের দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনচেতা ব্যাপারগুলোর বেশ মিল রয়েছে। ফলে তার অনুভূতির বেশিরভাগটাই আমার চেনা। চরিত্রের মতো করে নিজেকে গড়ে তুলতে পরিশ্রম, সময়, স্ক্রিপ্ট নিয়ে যা যা করা প্রয়োজন করেছি। বাকি যেটা ছিল তা ছেড়ে দিয়েছি নির্মাতার ওপর।’ গানের সঙ্গে এর আগে পরিচিত ছিলেন না বাঁধন। এ সিরিজে কাজ করতে গিয়ে একেবারে সারেগামাপা থেকেই শিখতে হচ্ছে তাকে। লিপসিং করতে হলেও বিষয়টি আয়ত্তে রাখার জন্য হাতে-কলমে গান শিখছেন। গান শিখতে গিয়ে গানের প্রতি অন্য রকম একটি ভালো লাগাও তৈরি হয়েছে বাঁধনের। যার কারণে গানকে তিনি নতুন সঙ্গী হিসেবে নিজের কাছেই রাখতে চান।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিরিজের জন্য গান শেখা শুরু করলেও আমি নিয়মিত গান চর্চা করতে চাই। বিষয়টি আমাকে ভীষণ ভালো লাগার অনুভূতি দিয়েছে। হয়তো আমি গায়িকা হয়ে যাব না। কিন্তু নিজের জন্য তো গুনগুন করে গাইতে পারব।’ এদিকে আলী যাকের, সারা যাকের, সুবর্ণা মুস্তাফা, হুমায়ুন ফরীদি, আসাদুজ্জামান নূর, তারিক আনাম খানসহ অনেক অভিনয়শিল্পীর সাবলীল উচ্চারণ শুনে মুগ্ধ হওয়া বাঁধন নিজের সাবলীল, মুগ্ধতা ছড়ানো উচ্চারণের জন্যও চর্চা করছেন। হয়তো পূর্বসূরি অভিনয়শিল্পীদের কাছাকাছি হয়তো যেতে পারবেন না কিন্তু তিনি চেষ্টা করে যাবেন অনবরত। সিরিজে চরিত্রটির জন্য বাঁধনকে চূড়ান্ত করার পর থেকেই অন্য কোনো কাজে নিজেকে যুক্ত না করে চরিত্রের মধ্যেই ডুবে ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘সৃজিত আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি মুশকানকে যেভাবে স্ক্রিনে দেখতে চেয়েছেন আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে সে ছকে ফেলতে।’ নির্মাতা এবং বাঁধন দুজনের ভাবনার সঙ্গে মিলেমিশে একজন মুশকান জুবেরী তৈরি হয়েছে সিরিজটির জন্য।

বাঁধন জানান, সৃজিত এবং তার ভাবনার মিল থাকার কারণে মুশকানের বিভিন্ন লেয়ারের চারিত্রিক উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ নেয়া সম্ভব হয়েছে। সিরিজের ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য মুশকান জুবেরীর হাতে। ফলে কোনোভাবে এ দৃশ্য ব্যর্থ না হয়ে যায় সে জন্য সৃজিত কতশতবার দৃশ্যটি রিহার্সাল করিয়ে শুট করেছেন তার হিসাব নেই। সহকর্মী হিসেবে সরাসরি বাঁধনের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার অভিনেতা রাহুল বোস। তিনিও বাঁধনকে অসম্ভব সাহায্য করেছেন। করোনাকালীন দেশের বাইরে, নতুন জায়গায় অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বাঁধন। যেগুলোকে জমিয়ে রাখতে চান পরে কখনো বলার জন্য।

এদিকে একটি ভালো স্ক্রিপ্ট, একজন ভালো নির্মাতার অপেক্ষার জন্য অভিনয়শিল্পীরা যেমন চাতক পাখি হয়ে বসে থাকেন এতদিন বাঁধন সেভাবেই বসেছিলেন। মাঝে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমাতে অভিনয় করে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছিলেন বাঁধন। মূলত সাদের সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সিরিজটিতে কাজ করার পথকে আরো মসৃণ করেছে। আর সৃজিত মুখার্জির সিরিজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গণ্ডির বাইরে এক বাঁধনকে তৈরি করতে পেরেছেন বলেই তিনি মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ